আজঃ সোমবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

পুলিশকে যথাযথ সহযোগিতা না করার কারনে অনেক অপরাধী শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিতঃ May 17th, 2021, 6:20 pm , |


রিপন আহমদ, মৌলভীবাজার : রাষ্ট্র পরিকল্পনার অন্যতম মাধ্যম হল জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। সেই আলোকে পুলিশ প্রশাসন সঠিক দায়িত্ব পালন করলেও সাধারণ জনগণ পুলিশ প্রশাসনকে যথাযথ সহযোগিতা না করার ফলে অনেক অপরাধী শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলার গোয়েন্দা সংস্থার এস আই মাহমুদুল হাসান জনি তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে বাংলাদেশের অপরাধীদের বিরুদ্ধে সচেতন মহলের নিরব ভূমিকা নিয়ে একটি স্ট‌্যাটাস দেন। উক্ত স্ট্যাটাসে তিনি বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলায় ঘটিত নানান অপকর্ম প্রকাশ্যে সংঘটিত হলেও সচেতন নাগরিক মহলের নিশ্চুপ থাকা লক্ষ্য করছেন বলে উল্লেখ করেন। সচেতন নাগরিক মহলের নিশ্চুপ ভূমিকার ফলে সমাজে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ জনসম্মুখে অহরহ ঘটে থাকলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে মুখ ফোটে বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এছাড়াও সচেতন নাগরিক মহলের নিশ্চুপ ভূমিকার পিছনে অপরাধীদের হুমকি কাজ করে বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইন হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার মুখ্য মাধ্যম।আইনের নিজেস্ব ধারা আছে।আইন সাধারন জনগণের জন্য সর্বদা দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ প্রশাসনের উপর ন্যস্ত হলেও সাধারণ জনগন পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগীতা করাও আইন। জানা যায় গত ১৪ মে শুক্রবার রাত্র ০২ ঘ‌টিকার সময় (অর্থ্যাৎ ঈদের দিন শুরু) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক বি‌ক্রির তথ‌্য পেয়ে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আল আমিনের নেতৃত্বে মাহমুদুল হাসান জনিসহ কয়েকজন মিলে দলবদ্বভাবে মাদকদ্রব্য ‍উদ্ধার অভিযানে বের হয়েছিলেন। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সংবা‌দের সত‌্যতা যাচাই‌য়ের নি‌মি‌ত্তে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ‌কে অব‌হিত ক‌রে ৩ জন লো‌কের স‌ন্দেহজনক গ‌তি‌বি‌ধি নজরদারী ক‌রেন। গভীর রাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক পর্যা‌য়ে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন লেংঞ্চাপাড়া সাকিনস্থ শায়েস্তাগঞ্জ মডেল এম এ কামিল মাদ্রাসার সামনে হবিগঞ্জ টু শায়েস্তাগন্জ মূল সড়কের রাস্তার পাশে সকাল অনুমান ০৭টা ৩০ মিনিটের ৩জন দৌড়ে পালনোর সময় ১টি ট্রাভেল ব্যাগসহ ০১ জন লোককে আটক করেন মাহমুদুল হাসান জনিসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বাকী দুজন পা‌লি‌য়ে যায়। ঈদের দিন সকাল বেলা হওয়ায় অনেক লোক সেখানে জড়ো ছিলেন। জড়ো হওয়া জনগণের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একজন সরকারী কলেজের প্রভাষক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। মাদক ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরার ঘটনা প্রত্যক্ষ সাধারণ জনগণের সামনে হলেও স্বাক্ষী দিতে নারাজ। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে সচেতন নাগরিকদের পাস কাটিয়ে চলে যাওয়া দেখে হতবিম্ব হলে গোয়েন্দা সংস্থার এস আই মাহমুদুল হাসান জনি। হবিগঞ্জ জেলার গোয়েন্দা সংস্থার এস আই মাহমুদুল হাসান জনি বলেন, উপস্থিত শত শত সচেতন নাগরিকদের সামনে আটককৃত ব্যক্তির হাতে থাকা ব্যাগের মধ্যে রক্ষিত নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য বিপুল সংখ‌্যক ফেন্সিডিল ও বিয়ার উদ্ধার করলাম। অথচ সচেতন নাগরিক হিসাবে আইনের নিয়ম মোতাবেক উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আমাকে উদ্ধারকৃত আলামতের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করতে হয়। তাই জব্দ তালিকা প্রস্তত করে উপস্থিত লোকদের সামনে থেকে দুই জন লোককে জব্দ তালিকায় সাক্ষী হতে অনুরোধ করলাম। কিন্তু কেউই রাজি হলো না। তারপর পরিচয়দানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রভাষক সাহেবকে অনুরোধ করলেও তারা সাক্ষী হতে রাজি হয়নি। জড়ো হওয়া ১২০/১৫০ জন সচেতন লোকের মধ্যে থেকে কয়েকজনকে দীর্ঘ আধা ঘন্টা ধরে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করাতে পারলাম না। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেবকে বললাম, “আপনারতো দেশের জন্য নিজের জীবনের মায়া ত্যগ করে যুদ্ধে গেছেন। এবার না হয় দেশের জন্যই মাদক নির্মূ‌লে একটু সাক্ষী হোন। আমরা দেশের স্বার্থে পরিবার প‌রিজ‌নের সাথে ইদ উদযাপন বির্সজন দিয়ে মাদক উদ্ধার অ‌ভিযা‌নে এ‌সে‌ছি আর আপনি একটু সাক্ষী হতে পারবেন না? মাদক নির্মূলে আমাদের সহায়তা করুন।” যাইহোক অনেক কথা বার্তা বলার পর মুক্তিযোদ্ধা সাহেবকে এক পর্যা‌য়ে কৌশলগতভা‌বে রা‌জি করা‌ে‌নো গেলেও প্রভাষক সাহেবকে রাজি করানো যায়নি। যদিও ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৪২ ধারা মোতাবেক পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জনসাধারণ সাহায্য করতে বাধ্য। তারা যদি সাহায্য না করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় বিধান আছে। এমন কি নাম ঠিকানা না বললে কিংবা মিথ্যা নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলে বিনা পরোয়নায় গ্রেফতার করার বিধান আছে। তিনি আরও বলেন এখানে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি গ্রামের লোকদের কথা উল্লেখ্য করলাম। প্রতি‌নিয়তই, বাংলাদেশের সকল জেলায় পু‌লিশ তথা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। জব্দ তালিকায় কেউই সাক্ষী হতে চায় না। ‌জোরপূর্বক সাক্ষী বানা‌নো হ‌লেও দায়সাড়া কথা বার্তা ব‌লে। যার কারনে মাদক ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য অপরাধীরা সাক্ষীর দূর্বলতার কারণে আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে বের হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাঁজা হয় না। মাদক নির্মূ‌লে পু‌লি‌শের উপর দায় না রে‌খে সবারই উ‌চিত দায়বদ্ধ থে‌কে পু‌লিশ‌কে সহায়তা করা।

 


এই বিভাগের আরো খবর

মতামত দিন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ
আক্তার হোসেন সাগর

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মোঃ শহীদ বকস

প্রধান উপদেষ্টাঃ
সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন

উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যঃ
আকলু মিয়া চৌধুরী
আউয়াল কালাম বেগ
এম. রহমান লতিফ

সম্পাদক কর্তৃক সেন্ট্রাল রোড, রাজনগর, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত।
মোবাইলঃ ০১৭১৫-৪০৫১০৪
Email: [email protected] | [email protected] (সম্পাদক)


Developed by - Great IT
error: Content is protected !!