Logo


মৌলভীবাজারের কালীবাড়িতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রায় অনুযায়ী মন্দির হচ্ছে

সালেহ আহমদ (স'লিপক) ||
প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৯৮জন দেখেছেন
Image
চন্দ্র দাশ।

এবিষয়ে এড. দীপ্তেন্দু দাশগুপ্ত কাজল বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি হিন্দু ট্রাস্টের রায় মৌলভীবাজারের পুরাতন কালীবাড়িতে মন্দিরের জায়গায় মন্দির হবে, এখানে কোন দোকান হবে না! এই দোকান নিয়েই একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়। যাহোক জেলা প্রশাসক এর উদ্যোগে আমরা উভয়পক্ষের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে পৌঁছতে পেরেছি।  আলোচনা সভায় আরেকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রভাংশু সোম মহানকে আহবায়ক করে উভয় পক্ষের পাঁচ জন করে ১০ জন সহ মোট ১১জন দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি আমি আশা রাখি যেন যত তাড়াতাড়ি কালী মায়ের মন্দির হবে। এবিষয়টি সমাধান হওয়ায় সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

শ্রী শ্রী নতুন কালীবাড়ির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্পাদক মহিম দে বলেন, আমরা তো প্রথম থেকেই বলে আসছি যে হিন্দু ট্রাস্টের রায়ে মৌলভীবাজারের পুরাতন কালীবাড়িতে মন্দিরের জায়গায় মন্দির হবে। মন্দির নিয়ে তো কোন দ্বিমত ছিলনা। আমরা প্রথমেই বলেছি এখানে জায়গা কম। তাই দোতলায় মন্দির হবে। পূর্বেই মন্দিরের পাশে দোকান কোঠা ছিল তাই দোকান কোটা বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা তো কখনো মন্দিরে বিপক্ষে ছিলাম না। যাহোক আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের সমস্যাটি সমাধান হওয়ায় সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মন্দির নির্মাণের কাজটি শেষ করতে পারি কালী মায়ের ইচ্ছা ও সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারে কালী মন্দিরের জায়গায় মন্দির নির্মাণের আদেশ দিয়ে রবিবার ১৯ মার্চ সচিব (উপসচিব) কৃষ্ণন্দু কুমার পাল স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পত্র জেলায় প্রেরণ করা হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রায়ে ও এলাকাবাসীর দাবি প্রতিফলিত হলো। সেখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, মৌলভীবাজার শহরের পুরাতন কালীবাড়িতে মন্দির নির্মাণ করতে হবে। কোন অবস্থায় দোকান কোঠা নির্মাণ চলবে না।

এর আগে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের আওতায় মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ মন্দিরের জায়গায় শুধুমাত্র মন্দির নির্মানের জন্যই ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তার ব্যত্যয় ঘটেছিল।

সারা দেশে সনাতন ধর্মালম্বীদের মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সংস্কার শীর্ষক প্রকল্প এর আওতায় শুধু একতলা বা দ্বিতল মন্দির নির্মানের নির্দেশনা থাকলেও তার ব্যতিক্রম ঘটেছে মৌলভীবাজারে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা শহরের পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের নতুন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে। সূচনালগ্নে ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটির কারণে কমিটির নির্মাতারা উদাসীন থাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার দেখে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা রাজ সরকার উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ করেন এবং প্রশাসনিক নির্দেশ মোতাবেক ছাদ ঢালাই ভেঙ্গে পুনরায় ছাদ নির্মিত হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বিগত ২৭ অক্টোবর ২০২২ বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার পুরাতন কালী মন্দির নির্মাণে সৃষ্ট সমস্যা গুলো সরজমিনে পরিদর্শন করেন।

আরও খবর

মৌলভীবাজারে পর্যটন দিবস পালিত

বুধবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩